জিম্বাবুয়ের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সামরিক কর্মকর্তারা

জিম্বাবুয়ের নতুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া। জেনারেল সিবুসিও মোয়োকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর কৃষি ও ভূমি বিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে বিমান বাহিনীর প্রধান পেরেন্স শিরিকে। গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানায়। মুগাবের পদত্যাগের পর নানগাগওয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। সময় তিনি দেশে নতুন যুগের সূচনা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তার ঘোষিত নতুন মন্ত্রিসভার কারণে শুরুতেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মেজর জেনারেল সিবুসিও মোয়ো সেনা অভ্যুত্থানের আগে তেমন পরিচিত ছিলেন না। তবে অভ্যুত্থানের সময় তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে টেলিভিশনে বিবৃতি দেন। তাকে এখন পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী সিবুসিও মোয়ো জিম্বাবুয়ের গ্রিন বেরেটস স্কোয়াডের নেতা ছিলেন। আর বিমান বাহিনীর প্রধান পেরেন্স শিরি ৮০’র দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মুগাবের নির্দেশে বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

 

এ দুজন ছাড়াও দেশটির সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও একজনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন নানগাগওয়া। সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুগাবেকে পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তাদের নেতা ক্রিস মুতসভাঙ্গওয়াকে তথ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও সাধারণ জিম্বাবুইয়ানরা তাদের সেনাপ্রধান জেনারেল কনস্তানতিনো চিবেঙ্গার নামে উল্লাস করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে তাকে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন নানগাগওয়া। মুগাবের মন্ত্রিসভার অনেককে রেখে দেওয়ার পাশাপাশি নানগাগওয়াকে সমর্থন করায় পুরস্কার হিসেবে সামরিক কর্মকর্তাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। দেশটির একটি সংবাদপত্রের মালিক টেনদাই বিটি এ ঘটনার সমালোচনা করে জিম্বাবুইয়ানরা ভুল আশা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের ফলাফল নিয়ে সন্দেহের মধ্যে আছি। সহজভাবে বললে, দেশ অনেক এগিয়ে যেতে পারত। আমরা দেশে পরিবর্তন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা চেয়েছিলাম।’ নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রচ- হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দেশে আবার সংকট দেখা দিতে পারে কারণ বেশিরভাগ মানুষই একই আছে। আমাদের স্বপ্নের ঘোর কেটে যাচ্ছে। মূলত যারা ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করেছে তাদের পুরস্কৃত করতেই তিনি (নানগাগওয়া) মনোযোগী হয়ে পড়েছেন’।