ফিটনেসহীন বাস রাস্তায় নামছে না

পালকি এন্টারপ্রাইজ পরিচালিত যাত্রীবাহী বাস দেওয়ান। এটি কুড়িল বিশ্বরোড থেকে আজিমপুর পর্যন্ত চলাচল করে। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ-ছয়টি বাস গতকাল মঙ্গলবার পূর্ব ভাটারার ১০০ ফুট রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। আশপাশের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরেই বাসগুলো ওখানে এভাবে রাখা আছে।

একই রাস্তা ধরে সামনে এগোলেই বালু নদী। ব্রিজ পার হয়ে নদীর ওপারে গেলেই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় স্মার্ট উইনার নামের আরো কয়েকটি বাস। বাসগুলো আজিমপুর থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত যাত্রী আনা-নেওয়া করে। এ রাস্তায় সু-প্রভাত, দেওয়ান ও উইনারের বেশ কিছু বাস দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কয়েক দিন ধরেই বাসগুলো ওভাবে পার্ক করে রাখা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫০০ নম্বরের দেওয়ান বাসটির দায়িত্বে ছিলেন মো. আনোয়ার। তিনি  বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনের সময় আমাদের তিনটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। এটিও সেগুলোর একটি। বাসটি মেরামত করতে হবে। কাগজপত্রেও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। সেগুলো ঠিক করার কাজ চলছে।’

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা টানা সাত দিন রাস্তায় আন্দোলন করেছে। ওই সময়ে বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা যানবাহনের কাগজপত্র শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। কোমলমতি এসব শিক্ষার্থী বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলতে দেয়নি।

এদিকে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যাওয়ার পর থেকেই রাস্তায় কড়া নজরদারি শুরু করেছে ট্রাফিক পুলিশ। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, বিশেষ টিম নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ির সব ধরনের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে তারা। সে কারণে যেসব গাড়ি বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই সেগুলো রাস্তায় বের হচ্ছে কম।

কাগজপত্র ঠিক না থাকা এ ধরনের প্রচুরসংখ্যক গাড়ি গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের আশপাশে স্থবির পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ১০০ ফুট রাস্তার মতো পাশের এলাকার মাদানি রোড, মুহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকা, বসিলা রোড, মিরপুর-১২ নম্বরের বিভিন্ন এলাকায় এভাবে লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলো পড়ে আছে। ঝকঝকে রঙের কিছু বাসও চোখে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজপত্র না থাকায় এগুলোও রাস্তায় বের হচ্ছে না।

গতকাল বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি বনানী-কাকলী সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ বেশ কয়েকটি বাস রেকারে তুলে ডাম্পিংয়ে পাঠিয়েছে। এসব গাড়ির ফিটনেস নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া যাদের কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার ভয়েও রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা গতকাল কম দেখা গেছে।

ঢাকা উত্তর ট্রাফিক বিভাগের ডিসি প্রবীর কুমার রায় বলেন, ‘আমরা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবার গাড়ির কাগজপত্রই চেক করছি। কাউকে ছাড়া হচ্ছে না। প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তবে শুধু মামলা নয়, সবাইকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করার জন্যও পরামর্শ দেন তিনি।’