বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

তখনও ২.৫ ওভার বাকি, জয়ের জন্য বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উইন্ডিজের প্রয়োজন ৫০ রান। এর মধ্যেই বৃষ্টি। দুইদল ফিরে গেল নিজেদের ড্রেসিংরুমে। যখন টান টান উত্তেজনা চলছে, এমন সময় ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশ দলের উদযাপন! কি হলো? খেলা বাকি থাকতেই উদযাপন? একটু পরই জানা গেল আসল তথ্য। ম্যাচ আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্ড হয়েছে। আর বৃষ্টি আইনে জয় পেয়েছে সাকিব আল হাসানের দল, সঙ্গে জিতে নিয়েছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

৬ জুলাই, সোমবার ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ফ্লোরিডার লডারহিল সেন্ট্রাল ব্রওয়ার্ড বিভাগীয় পার্ক স্টেডিয়াম টার্ফ গ্রাউন্ডে ক্যারিবীয়ান দলকে ১৯ রানে হারিয়ে আইপে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ ২-১ সিরিজ জেতে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ১৮৫ রানের রেকর্ড লক্ষ্য জয় করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে উইন্ডিজ দল। ২৬ রানের ওপেনিং জুটির পর ৩০ ও ৩২ রানের মাথায় আরও দুটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সেখান থেকে রাভমন পাওয়েল আর দীনেশ রামদিন খানিকটা দেয়াল গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। দলীয় ৭৭ রান হওয়ার পর সেই দেয়াল আর ধোপে টেকেনি। বল হাতে একাই ৩ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের সামনে ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের সামনে ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠা আন্দ্রে রাসেলকেও ফেরান তিনি। রাসেল ২১ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন। তিনি আউট হওয়ার পরই বৃষ্টি শুরু হয়।

সবমিলিয়ে ১৭.১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান তুলতে সমর্থ হয় স্বাগতিকরা। মুস্তাফিজ ছাড়াও আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকার একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

টস জেতা বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৪ রান তোলে। উইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি। ২০১২ সালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে করা ১৭৯ রান ছিল দলটির বিপক্ষে এতোদিনের সর্বোচ্চ রান। 

আগের দিনগুলোর মতো হয়নি এই ম্যাচের শুরু। শেষ টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিং জুটিতে বড় রান পেয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তামিম ইকবাল  ও লিটন কুমার দাসের ব্যাটে এসেছে ৬১ রানের জুটি। তামিম ২১ রানের ইনিংস খেলে আউট হলেও দলীয় রান আর মাত্র ৪ যোগ করতেই আউট হয়ে যান নতুন ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। ৪ নম্বরে মাঠে নেমেছিলেন পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। প্রায় প্রতি ম্যাচেই রান পাওয়া মুশফিক এদিন ১২ রান তুলতেই ফিরে গেছেন সাজঘরে।

লিটন একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। একাই তোপ দাগছিলেন উইন্ডিজ বোলারদের ওপর। যদিও দলীয় ১০২ রানের মাথায় কেসরিক উইলিয়ামসের বলে নার্সের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ফেরেন ৩২ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। তার ইনিংস জুড়ে ছিল ৩টি ছক্কা ও ৬টি চার।

]

 

সাকিব নিজের প্রিয় ব্যাটিং পজিশন দিয়েছিলেন সৌম্যকে। সেখানে সৌম্য যেমন ব্যর্থ হয়েছেন, পুরানো জায়গায় সাকিবও সুবিধা করতে পারেননি। আগের ম্যাচে ৬০ রানের ইনিংস খেলা অধিনায়ক আজ ২৪ রান করে কিমো পলের বলে ক্যাচের ফাঁদে পড়েন। সাকিব যখন আউট হন, বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ১৬ ওভারে ১৪৬। পরের ২৪ বলে ৩৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। পুরো কৃতিত্ব মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও আরিফুল হকের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮৪ রান তোলার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ ৩২ রানে ও আরিফুল ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।

মজার ব্যাপার হলো, উইন্ডিজের মতো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময়েও কাকতালীয়ভাবে শেষের দিকে বৃষ্টি নামে। উইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের সময় ১৮তম ওভারে বৃষ্টি শুরু হয়। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় বৃষ্টি নামে ১৭তম ওভারে। সেই বৃষ্টিতে ৩০ মিনিটের মতো সময় খেলা বন্ধ ছিল।

উইন্ডিজের পক্ষে কার্লোস ব্রেথওয়েট ও কিমো পল দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। কেসরিক উইলিয়ামস নিয়েছেন একটি উইকেট।