ভাগ্য ফিরল কফি বালকের-মানবতার পিতা হিসেবে খ্যাত পুলিশ সুপার

গল্পটা অতীতের বাংলা সিনেমার নায়কের গল্পের মত হলেও, তা সত্য। এ গল্পের নায়ক রিপন। একজন কফি ওয়ালা! বয়স ৯ বছর। বাংলা সিনেমার নায়কের মতই তার জীবন। ৫ সদস্যের পরিবার। তার মধ্যে আছে বাবা-মা ও ছোট দুটি বোন। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানায়। জীবিকার সন্ধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বসতি স্থাপন করেছে। অসুস্থ্য বাবা প্রথমে সারা শহরে রিক্সা চালাত। তার বাবা বেশি অসুস্থ্য হওয়ায় নিজের কাঁধেই দায়িত্বভার গ্রহন করেন পুরো পরিবারকে দেখাশুনা করার। তাই সে সংসারে হাল ধরার জন্য সিন্ধান্ত নেয় কফি বিক্রি করবে।

রিপন সত্যিই একজন নায়ক। কিভাবে? কারণ সে অন্যায় বা অবৈধ পথ বেঁছে নেয় নি। বেঁছে নিয়েছে একটি বৈধ ব্যবসা। কফি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন সিগন্যাল পয়েন্টেই তার বিচরন। মিষ্টি মুখে এই কফি কফি ডাক দিয়ে অনেকের কাছেই সে খুব পরিচিত মুখ। সবাই তার থেকে কফি ক্রয় করে, সে হয়তো প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা উপার্যন করে। কি ভাবছেন? অনেক টাকা? না! তার এই ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে থেকে ভাগ বসায় তার মালিকপক্ষ। যে মালিক পক্ষের কাছ থেকে কফি বিক্রির সব জিনিসপত্র নিয়ে আসে। সারাদিন ফেরীর পর সে ১০০-১৫০টাকার বেশি পায় না। তাতে কি তার সংসার চলে?

কোনোভাবে টিকে আছে তার সংসার। হয়তো নুন আনতে গিয়ে পানতা ফুরায় এই প্রবাদ বাক্যটাও তার সাথে যায়। তার এই কষ্টের জীবন কাহিনী জাগোর অঙ্গ সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কিছু কর্মীর সুবাদে ফেসবুকের মাধ্যমে মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই খবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশের প্রধান, মানবতার পিতা হিসেবে খ্যাত পুলিশ সুপার এর দৃষ্টিতে আসে। যেই নিউজটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষের কাছে ভালবাসার ফেরিওয়ালা খ্যাত তুমুল জনপ্রিয় সাবেক পুলিশ সুপার, বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি হওয়া মিজানুর রহমান পিপিএম (বার) গুরুত্ব সহকারে নেয়। সাথে সাথেই ছেলেটির ব্যপারে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন কে। তারপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংগঠনটির সদস্যদের বলেন এই কফি বালককে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসার জন্য। আজ দুপুর ১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীর সবার প্রিয় মানুষটির সাথে, সেই স্মার্ট কফি বালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কফি বালক খ্যাত ছেলেটি দেখা করে। ওর দুঃখে ভরা জীবন কাহিনী আবারও বর্ণনা করে তখন। বিশেষ করে সারাদিন যা আয় করেন তার মধ্য থেকে নাকি সামান্য টাকা পান কোম্পানীর কাছ থেকে কফি বিক্রি করার পর। সেই টাকা দিয়েই তার পরিবার খেয়ে-না খেয়ে জীবন ধারন করে। সেই দুঃখের কাহিনী শুনে পুলিশ সুপার ওর যাবতীয় কফি বিক্রির জিনিসপত্র ক্রয় করে দিবে বলে আশ্বাস দেন। সেই সাথে ওকে একটা স্কুলে ভর্তি করে দিবে এমনকি তার যাবতীয় খরচ জেলা পুলিশ বহন করবে এই আশ্বাসও দেন। ঐ সময় জাগো ফাউন্ডেশনের অঙ্গ সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভলান্টিয়াররা ছাড়াও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হলো সেই নায়ক রিপনের। স্বপ্ন পূরণ হল সেই কফি বালক নায়কের।

-মোঃ আশরাফুল হক
জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা