শূন্য টাকায় ফেসবুক পেইজ ব্র্যান্ডিং এর ১১টি উপায়

শুরুতেই বলে নিই এই উপায়গুলো একেবারে নতুন পেজের জন্য নয়। যাদের ১০ হাজার এর উপরে ফ্যান আছে তাদের জন্যেই মূলত। অনেকে টাকা খরচ করে হতাশ, আর টাকা খরচ করতে চাচ্ছেন না তাদের জন্য। টাকা খরচ না করেও এই উপায়গুলো অনুসরণ করে পেইজের ব্র্যান্ড ইমেজ বাড়ানোর পাশাপাশি পেইজ থেকে সেলস আনাও সম্ভব। যেহেতু টাকা ছাড়া ব্র্যান্ড বানানোর বুদ্ধি তাই আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে, অনেক সহ্য করতে হবে।

০) ০ দিয়ে শুরু কারণ শুরুতেই আপনাকে অনেক কিছু করতে হবে- ফেসবুক প্রোফাইলে নিজের পেইজ দিয়ে বোঝাতে হবে আপনি এটার Owner, CEO, Director, Partner ইত্যাদি। পেইজটাকে Own করতে হবে আপনাকে, আপনার টিমকে।
পেজের টিম মেম্বার হিসাবে নিজেদেরকে যোগ করুন। কিভাবে এড করতে হয় তা না জানলে ইনবক্স করুন আমাকে।
পেইজ একটা Anonymous জিনিস কিন্তু টিম মেম্বারেরা না। যখন কোন ভিজিটর কোন পেজের টিম মেম্বারদের আইডি দেখে তখন সেই পেজের প্রতি তার বিশ্বাস ৪০% এর বেশী বেড়ে যায় (ছোট পেজের ক্ষেত্রে এটা আমার পর্যবেক্ষণ)।

১) ফেসবুকের ব্র্যান্ড পেইজ তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ করুন। পেইজের সার্ভিস বা পণ্যের লিস্টগুলো অবশ্যই দেবেন । এই তথ্যগুলো সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ব্র্যান্ডকে খুঁজে পেতে অনেক সাহায্য করবে।
অনেকেই অসম্পূর্ণ পেইজ দিয়ে দিনের পর দিন ব্র্যান্ড দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। নিজের পেজে সময় দিয়ে এই কাজ গুলো করুন। একটা তথ্যবহুল পরিপূর্ণ পেইজ ফার্স্ট ইম্প্রেসনে ভাল রকমের সুবিধা দেয়।

২) পণ্য বা সেবা দিয়ে দোকান/Shop খুলুন। খুব চালু (১০/২০ টি) পণ্য নিয়ে Shop খুলুন। আস্তে আস্তে পণ্য বাড়ান। নতুন পণ্য আসলে তা শপে যুক্ত করে পেইজে পোস্ট করুন। ইদানীং বিক্রি ফেসবুকেই বেশী হচ্ছে। কারণ, মানুষ ওয়েবসাইটে গিয়ে নতুন করে লগ ইন করতে চায় না। মানুষের এই আলসেমিকে কাজে লাগান, শপ খুলুন।

৩) সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আকর্ষনীয় ইমেজ দিয়ে পোস্ট এখনো মানুষ বেশী লাইক করে, কমেন্ট করে আর প্রাসঙ্গিক মনে হলে সেটা তাদের বন্ধুদের সাথে, নিজেদের পেজে বা গ্রুপে তা শেয়ারও করে। এক্সসাইটিং কন্টেন্ট পোস্ট না করলে মানুষ পেজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং শেষে পেজ আনলাইক করে দেয়। এক্সাইটিং কন্টেন্ট মানে সেক্সি বা খুব ফানি হতে হবে এমননা। এটা দেখতে সুন্দর, হাসির, একটু নতুন বা দুর্দান্ত ডিজাইন, সমসাময়িক বিষয়কে ব্র্যান্ডের সাথে ট্যাগ করা কন্টেন্ট, ফ্যানদের জন্য দরকারী এমন কন্টেন্টকেই বুঝিয়েছি।

৪) আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে ‘ফেসবুক পেজ’ প্লাগইনটি ব্যবহার করুন। এতে পেজ লাইকের সংখ্যা বেশী হবে। ভিজিটররেরা ওয়েবের বা ব্লগের লেখা পছন্দ করলে তারা সাধারণত ঐ পেজেও লাইক দেয়। লাইক দিয়ে পেইজে ঘুরতে আসে। ঘুরতে আসা ভিজিটর আপনের বড় একটা লিড।

৫) বিভিন্ন বড় বড় পেজে নিজের পেইজ আইডি দিয়ে আকর্ষণীয় ও চিত্তাকর্ষক মন্তব্য করতে থাকুন। মনে রাখুন নিজের আইডি থেকে না, পেজের আইডি থেকে মন্তব্য করুন যেন ঐ লেখায় যারা কমেন্ট করেছে তারা আপনার পেজে আইডি থেকে করা মন্তব্যকে প্রাসঙ্গিক মনে করে। দয়া করে স্প্যামিং করতে যাবেন না, মানে নিজের ব্যান্ডের ঢোল পেটাতে যাবেন না।

৬) লিংকডইন, টুইটার, পিন্টারেস্ট, ইন্সটাগ্রামসহ অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করার সময় পেইজ লিঙ্ক ব্যবহার করুন। এমনকি ফেসবুকে পোস্ট লেখার সময়ও নিজের ব্র্যান্ডের পেইজ লিংক দিতে পারেন।

৭) পেইজ ফ্যানদের জন্য ডিসকাউন্টের আয়োজন করুন। এইজন্য একটা কুপন ব্যবহার করুন। যা কেনার সময় ক্রেতা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করে ডিসকাউন্ট পাবে। মানুষ ডিস্কাউন্ট পেতে পছন্দ করে।
পাশাপাশি প্রতিযোগীতা (Contenst) এখনও ফেসবুক পেইজে মানুষকে প্রলুব্ধ করার একটি দুর্দান্ত উপায়। আপনার ওয়েব সাইটে এবং আপনার কাছে থাকা ইমেলগুলোতে প্রতিযোগিতা প্রচার করুন। নিজের ফ্রেন্ডকেও এই Contestএর লিংক মেসেঞ্জারে পাঠাবেন। প্রতিযোগিতায় যারা জেতে তারা একটা Ownership পায় -‘আমি ফ্রি পাইনাই, খেলে নিজের পারফর্ম্যান্স দেখিয়ে পেয়েছি’, এই ফিলিংস দেওয়ার জন্যেই কন্টেস্ট অনেক কাজের ক্যাম্পেইন। অনেকেই ফ্রি বা ডিসকাউন্ট পছন্দ করে না, তারা কন্টেস্ট পছন্দ করে।

৮) ফেসবুকে নিজের ব্র্যান্ডের বা নিজেদের একটা গ্রুপ খুলুন। সেখানে ক্রেতাদের এবং ফ্রেন্ডদের এড করুন। আপনার কম্পিটিটর নয় এমন ফ্রেন্ডদেরকে বা ব্যবসায়ীকে এড করুন। তাদের ফ্রেন্ড এড করার জন্য উৎসাহিত করুন। নিজেদের সমস্যা, সুবিধা, অফার, নতুন সেবা বা পণ্য নিয়ে আলোচনা করুন। গ্রুপে অনাহূত পোস্ট বা স্প্যামিং যেন না হয় সেদিকে খেয়ার রাখুন। একটা প্রানবন্ত গ্রুপ আপনাকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আপনার পণ্য অন্য পেজের এডমিনের দরকার হতে পারে। গ্রুপ থেকে মাঝে মাঝে মিটআপ করতে পারেন। তাতে একটা ভাল নেটওয়ার্ক তৈরী হতে পারে।
পাশাপাশি অন্যান্য গ্রুপগুলোতেও একটিভ থাকুন। ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ আছে। মেয়েদের জন্য স্পেশাল কিছু গ্রুপ আছে, ক্রেতাদের জন্য গ্রুপ আছে, উদ্যোক্তাদের জন্য গ্রুপ আছে, ব্র্যান্ড মার্কেটিং নিয়ে কাজ করে তাদের গ্রুপ আছে, ডাক্তারদের, আইনজীবিদের গ্রুপ আছে। গ্রুপে খুব রিলেভ্যান্টলি নিজের পেজের ব্র্যান্ডিং করুন। প্রয়োজনে টার্গেটেড লোকদেরকে ইনবক্স করুন- ভুলেও গ্রুপে স্প্যামিং করতে দেবেন না, করবেন না।

৯) পেইজের কাভার ফটোটি খুব আকর্ষণীয় রাখুন। সেখানে আপনার সবচেয়ে চালু দু-একটা পণ্যের ছবি রাখুন বা সেবার কথা লিখুন। ফোন নাম্বার দিয়ে চলমান অফারের কথাটি রাখতেও ভুলবেন না। আপনার কিছুদিন পরপর পেজের কাভার পরিবর্তন করুন। প্রোফাইলে আপনার লোগোটি থাকলে কি এমন ক্ষতি?

১০) কমেন্টের উত্তর দ্রুত দিন। মেসেজের উত্তর দিন, প্রয়োজনে অটো রিপ্লাই অপসান দিয়ে রাখুন। কাস্টমার আশা করে যে আপনি তাকে গুরুত্ব দেবেন।এভাবে আপনি পেইজের Facebook Fast Response Badge পেতে পারেন।

১১) মার্কেটে কি হচ্ছে সেই ইনসাইট জানা দরকার। তাই লিডার এবং প্রতিযোগিদের উপরে চোখ রাখুন। কে কি করছে সেই অনুযায়ী নিজের ডিফেন্সিভ বা কম্পিটিটিভ স্ট্র্যাটেজি নিন। দিন শেষে একা একা সব কিছু বুঝতে যাবেন না। মার্কেটের ট্রেন্ড বোঝার পাশাপাশি নিজের ব্র্যান্ডের ট্রেন্ড বুঝতে নিয়মিত আপনার পেইজের ইনসাইটও দেখুন :P। নিজের পেজের ইনসাইট হল আপনার ফেসবুক ব্র্যান্ডের আয়না, সেই আয়নায় নিয়মিত ব্যান্ডকে দেখুন। ট্রেন্ড বুঝে পরের কাজগুলি করুন।