“আমি নির্বাচিত হলে তরুণদের নিয়ে স্বপ্নের বরিশাল গড়ে তুলবো” -সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

২০১৩ সালের নির্বাচনে বরিশাল সিটিতে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ২৫৭ জন। এবার ভোটার হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। ভোটার বেড়েছে ৩০ হাজার ৯০৯ জন। নতুন ভোটাররা সবাই ১৮ বছর উত্তীর্ণ। নতুন ভোটারের মধ্যে ১৩ হাজার ৮১১ জন পুরুষ ও ১৭ হাজার ৯৮ জন নারী। এছাড়া অন্যান্য ভোটারের মধ্যে ৩০ বছর বয়সীর সংখ্যা ৩৬ ভাগ। সে হিসেবে প্রায় আরও ১ লাখ অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ভোটারই ১৮-৩০ বছরের বয়সী। তাই প্রার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুও এই তরুণ ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে কাউন্সিলরদের পাশাপাশি মেয়র প্রার্থীদের ভাবনায় জায়গা করে নিয়েছেন নতুন ও তরুণ ভোটাররা। এরইমধ্যে তরুণদের নিয়ে নানান পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ অধিকাংশ প্রার্থী। আবার নতুন ভোটার অর্থাৎ তরুণরাও করছেন নানান হিসাব-নিকাশ।

তাই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে শিশু ও নারীদের পাশে তরুণদের জন্য আলাদা হিসাব করতে হচ্ছে তাদের। কারণ, এ ভোটাররাই পারে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়ে যে কারও পাল্লা ভারী করে দিতে। ইতোমধ্যে এক ভিডিও ডকুমেন্টারিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তাদের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, সাংস্কৃতিক বিকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন ভোটারদের নিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘নতুন এবং তরুণ ভোটারদের জন্য ইতোমধ্যে আমি মেসেজ দিয়ে বেশ সাড়া পেয়েছি। আমি বলেছি তরুণদের কর্মসংস্থান ও মাদক থেকে সরিয়ে আনার জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন আমি করবো।

তিনি বলেন, ‘৪-৫ বছর ধরে তরুণ সমাজের সঙ্গে আমি আছি, নির্বাচনেও তারা আমার সঙ্গে কাজ করছে। আমি আশাবাদী তারা স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করবে। আমি নির্বাচিত হলে তরুণদের নিয়ে তাদের স্বপ্নের বরিশাল গড়ে তুলবো।সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তরুণদের নিয়ে অনেকবার নির্বাচনী সভায় যোগ দেন। নতুন ও তরুণ ভোটারদের বিষয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার বলেন, ‘তরুণ ও নতুন ভোটাররা কি চাচ্ছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখছি। সাধারণ নগরবাসীর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের স্বার্থে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।

পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত যুগোপযোগী আধুনিক নগরী গড়ে তোলা হবে।বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার তরুণদের ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। একমাত্র নারী মেয়র প্রার্থী বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘বয়সে আমি নিজেও তরুণ এবং তরুণরা আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমরা গরিব ও মেহনতি মানুষের পাশাপাশি তরুণদের মতামতকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। তরুণদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুব সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে পাড়ায়-পাড়ায় পাঠশালা গড়ে তোলা হবে।জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ‘নতুন ও তরুণ ভোটারদের মানসিক বিকাশের জন্য আধুনিক নগরী হবে বরিশাল। যুবসমাজের জন্য একটি কাউন্সিলিং সেন্টার তৈরির পাশাপাশি বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

যুবকদের আইটিতে অভিজ্ঞ করে তোলার ইচ্ছেও আমার রয়েছে।প্রচারণায় তরুণদের অংশগ্রহণ : প্রথম ভোটার হওয়া ব্রজমোহন কলেজের ছাত্রী রাজিয়া বলেন, ‘তরুণদের নিয়ে প্রার্থীদের ভাবনায় কি রয়েছে, সেটি দেখেই ভোট দেবো।বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘তিনি এবারই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন। সেই হিসেবে ভেবেচিন্তে ভোট দেবেন। যিনি তরুণদের ভাবনা বুঝবেন, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানে কাজ করবেন; তাকেই ভোট দেবো।

 

 

মোঃরবিউল ইসলাম স্থানীয় রিপোর্টার প্রভাত বাংলা.বরিশাল